খেলোয়াড় কেনাবেচায় কঠোর হচ্ছে ফিফা

প্রকাশের সময়: ৮:০৩ অপরাহ্ন - শুক্র, নভেম্বর ২৪, ২০১৭

Transfer-Rules

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : ট্রান্সফার ফি’র বিশ্বরেকর্ড গড়ে বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে ভাগিয়ে এনে হইচই ফেলে দেয় পিএসজি। ফরাসি ক্লাবটির বিরুদ্ধে ওঠে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফার ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) নীতির লঙ্ঘনের অভিযোগ। এবার ট্রান্সফার সিস্টেমে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক ফিফা।

‘আগামী বছর’ থেকে খেলোয়াড় কেনা-বেচায় নতুন কিছু নিয়ম যুক্ত করতে চান ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইস্তাম্বুলে এক প্রেস কনফারেন্সে এমন চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গত আগস্টে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারকে আনতে ২২২ মিলিয়ন ইউরো গুণতে হয় পিএসজিকে। যা আগের ট্রান্সফার রেকর্ডের (ম্যানইউর পল পগবা, ১০৫ মিলিয়ন ইউরো) দ্বিগুণেরও বেশি।

যার টাকা আছে দলবদলের বাজারে আধিপত্য তার। মাঝারি ক্লাবগুলো এতে বেশ ক্ষুব্ধ। কয়েক মৌসুম ধরে কাতারি পেট্রো ডলার ঢালছে পিএসজি। সামার ট্রান্সফার উইন্ডোতে তারা নেইমার ছাড়াও মোনাকো থেকে ধারের চুক্তিতে নিয়ে আসে উঠতি ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড কাইলিয়ান এমবাপ্পে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছর বড় অঙ্কের বিনিময়ে তা স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেবে। এবার অনেকটা নিশ্চুপই ছিল তারকাদের সই করানোর ক্ষেত্রে সবার আগে থাকা স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ।

ট্রান্সফার প্রক্রিয়াকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে স্পষ্টতা আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন ইনফান্তিনো, ‘আমাদের আরও কিছু নিয়ম থাকা প্রয়োজন যা হবে আরও স্বচ্ছ, আরও পরিষ্কার। যদি আপনার একটা ক্লাব থাকে, আপনি একজন খেলোয়াড়ের ট্রান্সফার চান, আপনার কাছে অর্থ আছে, আপনি তা করতে পারবেন। আপনার কাছে অর্থ না থাকলে, আপনি তা করতে পারবেন না।’

‘আমাদের পরিষ্কার হওয়া দরকার কারণ অন্যথায় আমরা যা চাই তার বাইরে বসবাস করতে হবে এবং এ কারণেই এখন আমরা এই বিতর্ক শুরু করেছি। আশা করছি পরবর্তী বছর কিছু নতুন নিয়ম উপস্থাপন করতে সক্ষম হবো যা ট্রান্সফার সিস্টেমকে আরও নিয়ন্ত্রণ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবে।’-যোগ করেন ইনফান্তিনো।

ফিফা যেন খেলোয়াড়দের এজেন্টদের নিয়ে নিয়মের দিকে ফোকাস রাখে তার ওপরও জোর দেন ইনফান্তিনো। ফুটবলের ভাবমূর্তি সংরক্ষণে এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে মত তার, ‘আমাদের অবশ্যই এটি করতে হবে, অামাদের একটা উপায় বের করার বিকল্প নেই। এমন একটি নিয়ম দাঁড় করানো প্রয়োজন যা হবে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার। অামি বলতে চাচ্ছি যে কারও এই চাকরিতে অর্থ উপার্জনের অধিকার রয়েছে। এটা সঠিক, এটা যথার্থই সঠিক।’

‘কিন্তু এটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করতে হবে এবং আমাদের সেটিই করতে হবে। কারণ এখানে ফুটবলের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত এবং আমরা সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে চাই।’

প্রসঙ্গত, ক্লাবগুলোর আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে এফএফপি নীতি হাতে নেয় উয়েফা। সর্বশেষ তিন মৌসুমে একটি ক্লাব কখনো ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতির মধ্যে থাকতে পারবে না। এক নেইমারের জন্যই পিএসজি যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে তাতে তাদের আর্থিক নিয়ম মানার ব্যাপারটি প্রশ্নবিদ্ধ!

উপরে