কারাতের বিস্ময়কর কন্যা মাইমুনা (ভিডিও)

প্রকাশের সময়: ৯:৩২ অপরাহ্ন - রবি, অক্টোবর ১, ২০১৭

m 4

হুমায়ুন সম্রাটঐ যে কথায় বলে না ছোট সাপের বিষ বেশী…. কিংবা বাঘের বাচ্চা বাঘ-ই হয়। বিষয়টি ঠিক তেমনই। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সে যে কন্যা শিশু হাজারো মানুষের শক্ত মন গলিয়ে নিজের পক্ষে টেনে নিতে পারে তার প্রতিভা সত্যিই বিস্ময়। বাংলাদেশ কারাতের জগতে বিস্ময় কন্যা শিশুর নাম মাইমুনা সিকদার।

বয়স মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর। এ বয়সেই সে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত প্রথম ফেডারেশন কাপ কারাতে চ্যাম্পিয়নশীপে অর্জন করে মোট ৩টি পদক! এই ৩ পদকের মধ্যে রৌপ্য পদক রয়েছে যা সে পায় গ্রুপ কাতায়। বাকি ২টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে কুমিতে (ফাইটিং) ও একক কাতায়। সব মিয়ে এতটুকু বাচ্চা মেয়ে জিতে নিলো ৩টি মেডেল!

mm

একবার বিষয়টি কল্পনা করুণ.. এ বয়সে শিশুরা বাবা কিংবা মায়ের হাত ছাড়া চলতেই পারে না, আর মাইমুনা কিনা কাঁপিয়ে দিচ্ছে প্রতিপক্ষকে। সত্যি সে কারাতের বিস্ময় কন্যা। প্রতিযোগিতা মুলক আসরে সে কিন্তু এবারই পদক জয় করলো না নয়। এর আগেও সে পদক জিতেছে তার চেয়ে বড় মেয়েকে হারিয়ে! সে তথ্য জানার আগে একটু জেনে নেয়া যাক মাইমুনার পাবিবারিক পরিচয়টা।

মাইমুনার বাবার নাম- মো: আব্দুল শুক্কর আলী সিকদার। মা- খাদিজা বেগম। বড় বোন-লায়মা সিকদার। আর সবার ছোট ভাই মো: ইসমাইল সিকদার। বাবা দেশের কারাতে জগতে সবার কাছে শুক্কুর আলী নামেই বেশি পরিচিত। তিনি কারাতের সাথে যুক্ত সেই ১৯৮৮ সাল হতে। এখন আছেন কারাতে কে নিয়ে। নতুন করে কারাতের সাথে জড়িয়েছেন বড় ও ছোট মেয়েকে। নিজের গড়ে তুলা বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে-দো ক্লাবের পক্ষ থেকেই কারাতে ম্যাটে নামে দুই মেয়ে। কারাতের প্রসার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য শুক্কুর আলী বিটিভিতে নিয়মিত একটি কারাতের অনুষ্ঠানও চালিয়ে যাচ্ছেন।

m 2

এখন ফেরা যাক মাইমুনার কথায়। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবস কারাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ছোট্ট খুটি মাইমুনা। তখন বয়স মাত্র ৩বছর! সেই তিন বছর বয়সেই প্রথম গলায় উঠে ব্রোঞ্জ মেডেল।

এরপর ২০১৭ সালে স্বাধীনতা দিবস কারাতে প্রতিযোগিতায় ম্যাটে নেমে জিতে নেয় আবারও একটি ব্রোঞ্জ পদক।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমন্যাশিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা দেখেছে মাইমুনার ছোট্ট পায়ের অসাধারণ কিক আর প্রতিপক্ষের মুখে পাঞ্চ! জিমন্যাশিয়ামের হাজারো দর্শকই প্রচার মাধ্যম হয়ে থাকলো মাইমুনার জন্য। সে যে কারাতের আগামীর তারকা তাতে কোন সন্দেহ নেই। শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা….।

m 1

মাইমুনার বাবা শুক্কুর আলী জানালেন, আমি যখন অন্য ছেলে-মেয়েদের ট্রেনিং করাতাম তখন ও (মাইমুনা) এসে দেখতো এবং ম্যাটে নেমে দেখে দেখে নিজের মত করতো। তখন তার বয়স মাত্র আড়াই বছর। আড়াই বছর থেকেই সে কারাতে শিখছে। একজন কারাতে প্রশিক্ষক হিসেবে আমি লক্ষ্য করেছি ওর মধ্যে কারাতের প্রতিভা রয়েছে। যারা কারাতে করে এবং বুঝে তারাও আমাকে বলেছে ওর ব্যাপারে। আমি চাই সে কারাতে চালিয়ে যাক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য পদক জয় করুক এটিই আমার স্বপ্ন।

m 3

বড় বোন লায়লা সিকদার সেও বাবার দল থেকে ফেডারেশন কাপ কারাতে চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নিয়ে জয় করেছে ২টি পদক। ১০-১২ বছর বয়সি উন্মুক্ত কুমিতে (ফাইটিং) ইভেন্টে স্বর্ণ এবং একক কাতায় লাভ করে রৌপ্য মেডেল।

বাবার দেখিয়ে দেয়া রাস্তায় বড় বোনের সাথে হাঁটছে ছোট্ট মাইমুনা। কালের সাথে বড় হচ্ছে সে। সবার মন ছিনিয়ে নেয়া মাইমুনা একদিন জয় করবে বিশ্ব কারাতের জগত। সে রকম স্বপ্নের জালই মনের গহিনে বুনছে বাবা শুক্কুর আলী। বাবাদের বিশ্বাস কি কখনও মিথ্যা হয়?

উপরে