ভলিবল খেলায় কাপ মাসল ইনজুরি ও করণীয় কি জেনে নিন

প্রকাশের সময়: ১০:৩৮ অপরাহ্ন - মঙ্গল, মে ২, ২০১৭

calf

শামীম-আল্-মামুন : ভলিবল খেলায় খেলোয়াড়দের সাধারণ ইনজুরি বা আঘাত প্রাপ্তির বিষয়ে কিছুুটা হলেও ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ৫টি কমন বা সাধারণ ইনজুরি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এর বাহিরেও আকস্মিক দূর্ঘটনা জনিত কিছু আঘাত ভলিবল খেলোয়াড়দের হয়ে থাকে। বিশেষ করে মহিলা ভলিবল খেলোয়াড়দেরকে এই সব আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে।

এক্সিডেন্টাল বা আকস্মিক দূর্ঘটনা জনিত আঘাতসমূহ :
১. ফিংগার ইনজুরি বা আঙ্গুলের আঘাত
২. কাপ মাসল ইনজুরি বা পুল
৩. হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি বা মাসল পুল
৪. বেলী ইনজুরি বা প্যাকট্রোলিস মেজর মাসল ইনজুরি

কাপ মাসল ইনজুরি : 
ভলিবল খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি আকস্মিক দূর্ঘটনাজনিত আঘাত বা ইনজুরি। যেকোন এ্যাথলিট বা খেলোয়াড়ের জন্য বিশেষ করে দৌড়বিদদের জন্য এটি স্বাভাবিক ইনজুরি। এই ইনজুরি ভলিবল খেলোয়াড় যাঁরা স্পাইকার, ব্লকার বা ডিফেন্ডার তাঁদেরকে বেশী ভোগ করতে হয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- ভলিবল স্পাইকিং এর শেষ পর্যায় হলো ”হিল টু টো” এ্যাকশন। এই এ্যাকশনের জন্য মাটি থেকে স্পাইকার যখন জাম্প করে মাটি বা ফ্লোরের সাহায্যে উপরে ওঠার জন্য পা দিয়ে চাপ দেয় তখন সর্বশেষ কাপ মাসলকে এই চাপ বহন করতে হয়।

একই ভাবে স্পাইক করার পর যখন সে মাটিতে ল্যান্ড করে, তখন রিভার্স এ্যাকশন বা বিপরীতমুখী বিষয় থাকে। যেমন ল্যান্ডিয়ে ”টো টু হিল” এ্যাকশন করে তাকে সুন্দরভাবে শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। যদি সঠিকভাবে কাপ মাসলকে ওয়ার্ম-আপ না করা হয়, তবে সেখানে হঠাৎ ব্যাথার উদ্রেক হয়।

ফলে স্পাইকার তার স্বাভাবিক উচ্চতায় উঠতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তী পর্যায়ে খেলাতে মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। একইভাবে ব্লকিং ও ডিফেন্সের ক্ষেত্রে লেগ মুভমেন্ট ও জাম্পি স্টেইপে ব্লক বা বল রিকাভারি করতে ভলিবল খেলোয়াড়দের কাপ মাসলে টান লাগতে পারে।

মূল কারণ : ভালোভাবে নির্দ্দিষ্ট মাংসপেশীর ওয়ার্ম-আপ না করা এবং সে মোতাবেক ভলিবল খেলায় যাওয়ার পূর্বে তা ঠিকমত কয়েকবার অনুশীলনের মাধ্যমে তার রিফ্লেকশন বা ঝালাই না করা।

প্রতিকার :
হঠাৎ কাপ মাসলে টান বা ব্যথা পেলে খেলোয়াড়কে প্রাথমিকভাবে নীচ থেকে উপরের দিকে হালকাভাবে চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করা, পেইন কিলার স্প্রে দ্বারা ব্যথা কমানোর ব্যবস্থা নেয়া, কাপড় বা টাওয়ালের মধ্যে বরফ খন্ড নিয়ে মাসলের উপর সুন্দর ও আলতোভাবে ঘষা বা চেপে ধরে রাখা। এসব কিন্তু ব্যথা পাওয়ার সাথে সাথে করতে হবে।

যদি ব্যথা দীর্ঘ সময় কিংবা ৪ ঘন্টা অতিক্রম করে কিন্তু তখনও থাকে তবে গরম পানির সেক বা পশমী কাপড় গরম করে সেক দেয়া, সহনীয় গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখা, সঠিক মাত্রায় বিশ্রাম নেয়া এবং বেশী ব্যথা হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা।

S-111

উপরে